This blog is not about me only..but all of us. I mean you will definitely find one of your voices too in the writing. Welcome..

Friday, 15 November 2013

শিরোনামহীন গাঁথা

আমাদের বাসার চারপাশটা ইদানীং ভীষন নির্জন। আমি নির্জনতার মাত্রাটা বুঝতে পারি ঠিক বারোটার পর থেকে। হঠাৎ করেই রিমোট কন্ট্রোলে মিউট করে দেয়া হয়েছে চারপাশের সবকিছু। মঞ্চে চলছে কোনো শিরোনামহীন মুকাভিনয়। তাতে মুক্ত বাতাস আছে, রাতের আকাশে তারা আছে, শীতের আগমনী গান আছে, সবুজ পাতাদের স্পন্দন আছে, সে স্পন্দনে হয়তো সুর আছে, আর আছে কথাও। কিন্তু মঞ্চস্থ মুকাভিনয়ে শোনা যায় না এসব কিছুই। বোঝা যায় ঠিক। চারপাশের ঘটে যাওয়া পরিবর্তন মনোযোগ দিয়ে দেখি। তারপর ভাবি, পরিবর্তন, সে তো জীবনের অংশ।কখনো তা স্বাভাবিক, কখনোবা না।তবে আমি একটা দ্বিধায় থাকি, অস্বাভাবিক পরিবর্তকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহন করা কতটা স্বাভাবিক? না সেটাকে বলবো বেঁচে থাকার জন্য adaptation. Adaptation এর খুব ভাল বাংলা মাথায় আসছে না।বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন আছে নিঃসন্দেহে এর। নতুন কেনা কতগুলো জুতো আছে, প্রথম প্রথম হাঁটতে অসুবিধা হয়, পায়ে স্মৃতি হিসেবে থেকে যায় ফোস্কা। তারপর এক সময়, সেটা দিয়েই দৌঁড়োনো। জুতোর Evolution না এটা আমাদের adaptation? দুটোর সংমিশ্রন হয়তো। তবে এসবের উর্ধ্বে মাঝে মাঝে দরকার পরে যায় revolution.

রাত একটার সময় গ্লাসে পানি ঢালতে গিয়ে হাত থেকে পরে যায় গ্লাস, নির্জনতা চমকে উঠে, সাথে আমিও।গ্লাসের শব্দে চমকে অবাক হই আমি। টিভির footage গুলো দেখে চমকাই না কেন!গাড়িতে লাগানো আগুন, মানুষের উড়ে যাওয়া হাত, রাস্তায় লাশ,ফটো সাংবাদিকের বোমার আঘাতে নষ্ট হয়ে যাওয়া চোখ, স্বজন হারিয়ে পরিবারের আকাশ বিদীর্ন আর্তনাদ। হারিয়ে যায় মানুষ, হারিয়ে যায়, নির্মমতার কাছে। তবে হেরে যায় না।আমি থমকে যাই,নীরবে তাকিয়ে থাকি,কিন্তু চমকে উঠি না।মন কাঁদে,চোখ কাঁদে না। আমি হাসি, আনন্দে কাঁদি কখনো, অথচ কীভাবে অনায়াসে থমকে যাওয়া মুহূর্ত থেকে বেড়িয়ে আম্মুকে বলি, খেতে দাও আমাকে।

 ১২ নভেম্বর,২০১৩

No comments:

Post a Comment